বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
রাজনীতিবিদদের বিদেশে সম্পত্তি বিক্রি, তদন্ত আরও তীব্র হচ্ছে!
অনলাইন ডেস্ক
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঢাকায় চলছে তদন্ত। তাদের অনেকেই গত এক বছরে যুক্তরাজ্যে থাকা সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা পুনঃঅর্থায়নের মাধ্যমে সম্পদ সরানোর চেষ্টা করেছেন বলে গণমাধ্যম ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনের এক যৌথ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলন চরম আকার নিতে শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শত শত বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। এরপর হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য গা ঢাকা দেন। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির পাড়ি জমায় যুক্তরাজ্যে।
গত মে মাসে ব্রিটেনের জাতীয় অপরাধ দমন সংস্থা এনসিএ (জাতীয় অপরাধ সংস্থা) সালমান এফ রহমান পরিবারের মালিকানাধীন ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করে। আগের গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে তাদের সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেয়েছিল। একই সঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরির ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদও জব্দ করা হয়।
গণমাধ্যম ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকায় কঠোর তদন্ত চলছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, যুক্তরাজ্যের জমি নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে তদন্তাধীন ব্যক্তিদের নামে অন্তত ২০টি সম্পত্তি লেনদেনের আবেদন জমা পড়েছে। এসব লেনদেন সাধারণত বিক্রয়, হস্তান্তর বা বন্ধক সম্পর্কিত।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সঙ্গে জড়িত দুজন ব্যক্তি দুদকের তদন্তের আওতায় রয়েছেন। গত এক বছরে তারা একাধিক সম্পত্তি লেনদেনে যুক্ত ছিলেন। একজন হলেন সাইফুজ্জামানের ভাই আনিসুজ্জামান এবং অন্যজন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী, যার নাম গার্ডিয়ান প্রকাশ করেনি।
আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা চারটি সম্পত্তি নিয়ে সাম্প্রতিক বাজার তথ্য পাওয়া গেছে। গত জুলাইয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের পাশে ১ কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি জর্জিয়ান টাউন হাউস বিক্রি হয়েছে। এর পর আরও তিনটি আবেদন জমা পড়েছে, যা পুনঃঅর্থায়ন সংক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আনিসুজ্জামানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সম্পত্তি জব্দের কোনো বৈধ কারণ তারা দেখতে পান না। রিজেন্টস পার্কের সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি ২০২৩ সালের অভ্যুত্থানের আগে হয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ বেসরকারি ব্যাংক ইউসিবির চেয়ারম্যান দুদককে অনুরোধ করেছিলেন—তারা যেন দেখেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী অনিয়ম করে লন্ডনভিত্তিক এক ব্যবসায়ীকে ঋণ দিয়েছেন কি না।
এ বছর, বাংলাদেশের একটি আদালত ওই ব্যবসায়ীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান ও ভাতিজা আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন তিনটি সম্পত্তি লেনদেনের আবেদন জমা পড়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের শীর্ষ নির্বাহী এই দুই ব্যক্তি বর্তমানে দুদকের তদন্তের আওতায় রয়েছেন।
তাদের মধ্যে একটি হলো মেফেয়ারের গ্রোসভেনর স্কয়ারে অবস্থিত ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট, যা সম্প্রতি এনসিএ জব্দ করেছে।
রহমান পরিবারের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো অনিয়ম করেননি। বাংলাদেশের ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার’ কারণে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে এবং যুক্তরাজ্যের যেকোনো তদন্তে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।